অক্টোবর ৫, ২০২৫, ১২:৩৬ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথেই আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ভরা মৌসুমের আগে বাজারে সবজি তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়া এবং গত বছরের লাভের অভিজ্ঞতায় এবারও বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। মাঠের পর মাঠ এখন মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও টমেটোর সবুজ চারায় ভরে উঠছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে, যেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার ভিমলপুর গ্রামের সবজি চাষি হামিদুল হক জানান, গ্রীষ্মকালীন সবজির মৌসুম প্রায় শেষ। তীব্র খরা ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে গ্রীষ্মে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ফলন আশানুরূপ হয়নি। তাই সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখন শীতের সবজিতেই ভরসা। তিনি জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে বাঁধাকপি চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো পেলে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন।
একই গ্রামের আরেক চাষি আল আমিন বলেন, ভালো দাম পেতে হলে ভাদ্র মাসের শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। ইতোমধ্যে তিনি ৮০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চারা রোপণ করেছেন। বাজারে এরই মধ্যে আগাম জাতের শিম, মুলা ও বিভিন্ন ধরনের শাক উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে সবজি তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান বলেন, গত বছর আগাম সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেশি। ধান ও ভুট্টার পাশাপাশি ফুলবাড়ী উপজেলা সবজি উৎপাদনেও এগিয়ে যাচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন