রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাটি ছাড়াই চারা উৎপাদনে কুমিল্লার রাব্বির সাফল্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ১০:৪৩ এএম

মাটি ছাড়াই চারা উৎপাদনে কুমিল্লার রাব্বির সাফল্য

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাটি ছাড়াই চারা উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হোসাইন রাব্বি নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা। ইউটিউবে ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে এই আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে নেমেছেন এবং প্রথম বছরেই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। জেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সমেষপুর গ্রামের বাসিন্দা রাব্বি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী। তার বাবা আনোয়ার হোসেন প্রায় তিন দশক ধরে চারা উৎপাদনের ব্যবসার সাথে জড়িত, বাবার কাজেই দীর্ঘদিন ধরে সাহায্য করে আসছেন রাব্বি।

তবে এ বছর তিনি নিজেই কোকোপিট ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন শুরু করেছেন।হোসাইন রাব্বি জানান, চলতি মৌসুমে তিনি পাঁচটি শেডের নিচে প্রায় এক লাখ বিভিন্ন জাতের সবজি চারা উৎপাদন করেছেন। এই চারা বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন, যেখানে তার মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক এক লাখ টাকা। প্রতিটি চারা তিনি গড়ে দুই থেকে পাঁচ টাকায় বিক্রি করছেন। রাব্বি বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে মাটি থেকে চারা তোলার সময় শিকড় ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে অনেক চারা নষ্ট হয়।

কিন্তু কোকোপিট পদ্ধতিতে ট্রে থেকে চারা তোলার সময় শিকড় সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে, ফলে জমিতে লাগানোর পর শতভাগ চারাই টিকে যায়। কোকোপিট মূলত নারিকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি হয়, যা পানি ধরে রাখতে পারে এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ দেয়, ফলে চারার শিকড় সুস্থ ও সতেজ থাকে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় তাপমাত্রা বেশি, সেখানে এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারার ফলন ভালো হয়।

রাব্বি আরও জানান, কোকোপিট পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা শতভাগ শিকড়যুক্ত থাকায় জমিতে লাগানোর পর খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফলনও তাড়াতাড়ি আসে। এ বছরই প্রথম উৎপাদন শুরু করলেও স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। চাহিদা দেখে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন তিনি। যদিও টানা বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে বিক্রি কিছুটা কম হচ্ছে, তবে ক্রেতাদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি।

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, কোকোপিট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ এবং এতে ফলন দ্রুত আসে। এই পদ্ধতিতে রোগবালাইও অনেক কম হয়, তাই কৃষকরা এখন এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। তিনি রাব্বির এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সমেষপুরসহ কুমিল্লা জেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ৭০০-এর বেশি কৃষক চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত এবং চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ কোটি টাকার চারা বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোকোপিট পদ্ধতি কুমিল্লার কৃষকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।