অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৬:০১ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের কৃষক মোতালেব মিয়া স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় তার বাড়ির পাশে ২০ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল জি-নাইন জাতের কলা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। গত বছর প্রথমবারেই ভালো ফলন, বড় আকারের ছড়ি এবং কলার আকর্ষণীয় গড়ন ব্যাপারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মোতালেব মিয়ার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও জি-নাইন কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং মোতালেব মিয়া নিজেও তার বাগানের আকার বৃদ্ধি করেছেন। এই জাতের কলাগাছ রোপণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই ছড়ি আসে এবং প্রতিটি ছড়িতে ১৫ থেকে ২০টির মতো কাঁদি থাকে, যা থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি কলা পাওয়া যায়। যেখানে অন্যান্য জাতের কলার ফলন আসতে প্রায় এক বছর সময় লাগে, সেখানে জি-নাইন কলার ফলন মাত্র আট মাসেই পাওয়া সম্ভব।
দেখতে সুন্দর, আকারে বড় এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এই কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, ফলে অন্য কলার তুলনায় কিছুটা বাড়তি দামেও এটি বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা থাকায় ব্যাপারীরা সরাসরি জমি থেকেই কলা কিনে নিয়ে যান, এতে চাষীরা সহজেই লাভের মুখ দেখছেন। মোতালেব মিয়া জানান, কলা চাষ ও পরিচর্যা করতে তার প্রায় ১৫,০০০ টাকার মতো খরচ হয়েছিল এবং তিনি প্রথমবারেই ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন।
তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন, একজন জানান প্রায় ১০-১১ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেছেন এবং প্রতিটি ছড়ি আকারভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করা যায়। অন্যান্য কলার তুলনায় এটি অনেক বেশি লাভজনক কারণ আট থেকে নয় মাসের মধ্যে ফলন পাওয়ার পর এই গাছ থেকে দুই থেকে তিনবার ফলন সংগ্রহ করা সম্ভব।
পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই জি-নাইন কলার বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারিত হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতির গতিধারা বদলে যাবে, অনেকেই আর্থিক স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং বেকারত্ব দূর হবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন