রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আদমদীঘিতে আগাম আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ১০:৪৪ এএম

আদমদীঘিতে আগাম আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা

চলতি রোপা আমন মৌসুমে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ ধানক্ষেত এখন সোনালি রঙে রূপ নিতে শুরু করেছে। কৃষকরা আশা করছেন, আর কিছুদিন পরই এই নতুন ধান ঘরে উঠবে।

ফসলের এই ভালো অবস্থার পেছনে উপজেলা কৃষি অফিসের নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ বড় ভূমিকা রেখেছে। জানা গেছে, ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আলোক ফাঁদ স্থাপন, কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ উল্লেখযোগ্য। এসব পদক্ষেপের ফলে এখন পর্যন্ত ধানক্ষেতে বড় ধরনের কোনো রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা যায়নি। কৃষকদের প্রত্যাশা, এবার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান উৎপাদন হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আদমদীঘির ৬টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় মোট ১২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা এবার ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৯০, বিনা ধান-১৭, স্বর্ণা-৫ এবং পারিজা-সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের ধান রোপণ করেছেন।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, যেমন সান্তাহার পৌর শহরের তিয়রপাড়া, উপর পোঁওতা এবং ছোট জিনোইর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সোনালি ধানের শীষ বাতাসে দুলছে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য কৃষকের মনে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিয়রপাড়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন এবং উপর পোঁওতা গ্রামের সোহানুল ইসলাম জানান, এ বছর আমন ক্ষেতের অবস্থা খুবই ভালো। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়নি। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ভালো থাকে, তবে এবার আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তারা আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ফসলের সার্বিক অবস্থা খুবই সন্তোষজনক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার আগাম জাতের ধানের ফলন আরও বেশি হবে।’ তিনি আরও জানান, ধান কাটার পর কৃষকরা যেন একই জমিতে সরিষা চাষ করতে পারেন, সেজন্য তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা একই মৌসুমে দুটি ফসল ঘরে তুলে লাভবান হতে পারবেন।