অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম
উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিল থেকে বর্ষার পানি কমতে শুরু করেছে। বর্ষার স্রোত থেমে যাওয়ায় চারদিকে আবার চেনা কৃষিজমি জেগে উঠছে। এই সুযোগে শরতের শেষ ভাগেই মাঠে নেমে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তারা এখন সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
চলনবিল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর এবং পাবনার চাটমোহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা আগাম জাতের সরিষা বীজ বপন শুরু করে দিয়েছেন।
তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের একজন কৃষক আব্দুল হালিম জানান, বর্ষার পানি নামতেই জমি শুকাতে শুরু করেছে। এটিই সরিষা বপনের উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, 'আমরা আগাম জাতের সরিষা বুনলে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ফুল আসবে এবং আশা করছি জানুয়ারিতেই ফলন ঘরে তুলতে পারবো।'
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলনবিল এলাকায় চলতি মৌসুমে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো, এ বছর পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় অনেক অনাবাদি জমিও সরিষা চাষের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, চলনবিল অঞ্চলের মাটি তেলবীজ ফসলের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের উন্নত জাতের সরিষা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এতে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়বে, তেমনি স্থানীয়ভাবে ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণেও এটি বড় অবদান রাখবে।মাঠজুড়ে কৃষকের পদচারণায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে চলনবিল। চারদিকে হালচাষ, বীজ বপন আর কৃষকের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে বিলের মাঠ। কৃষকেরা আশা করছেন, আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন