রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুড়িগ্রামের চরে ডালের বিপ্লব, সেচ ছাড়াই মিলছে কাঙ্ক্ষিত ফলন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ০৪:৪৫ পিএম

কুড়িগ্রামের চরে ডালের বিপ্লব, সেচ ছাড়াই মিলছে কাঙ্ক্ষিত ফলন

জলবায়ুর প্রভাবে প্রকৃতি ও পরিবেশের চিরায়ত রূপ বদলে যাওয়ায় এবং বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির আকাল দেখা দেওয়ায় কুড়িগ্রামের কৃষকরা চিরাচরিত ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকরা এবার আমন ধানের জমিতে ডাল আবাদ করেছেন।

কৃষকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তারা ধানের বদলে ডাল চাষের সিদ্ধান্ত নেন, যা সেচ ও কোনো প্রকার বাড়তি খরচ ছাড়াই ঘরে তোলা সম্ভব। এই ডালকে স্থানীয়ভাবে মাছ কালাই বা ঠাকড়ি কালাই বলা হয়।

কৃষকদের মতে, প্রথমে বৃষ্টি কম থাকলেও শেষের দিকে বৃষ্টি হওয়ায় ডালের ফলন খুব সুন্দর হয়েছে এবং ধানের চেয়ে ডালে বেশি লাভ হবে বলে তারা আশা করছেন। চরের কৃষকরা এই নতুন ফসলকে একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখছেন, যা সেচ ও পরিচর্যা ছাড়াই সহজে ঘরে তোলা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও জলবায়ুর প্রভাবে ফসলের এই প্রকৃতি বদলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ধানের বিকল্প হিসেবে কৃষকদের মাসকলাই চাষে আগ্রহী করতে তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। এই লক্ষ্যে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর শুধু নাগেশ্বরী উপজেলাতেই ৩৩৫ হেক্টর জমিতে ডাল চাষ হয়েছে। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় চরাঞ্চলের সংগ্রামী কৃষকরা এভাবেই আবহাওয়া উপযোগী নতুন ফসল খুঁজে নিচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে ডালের বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে।