ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ১০:৪২ পিএম
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো যেন অলৌকিকতার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবারই এই মসজিদের দানবাক্স খুললে অর্থের পরিমাণ আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শনিবার সকাল থেকে দিনভর গণনার পর এই মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে মোট ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গেছে।
তবে এবার টাকার পরিমাণের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে একটি চিরকুট। নাম-পরিচয় গোপন রেখে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি হাদী নামক একজনের হত্যার বিচার চেয়ে প্রকাশ্যে আরজি জানিয়েছেন ওই চিরকুটে।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলা হয়।
বড় বড় ১৩টি দানবাক্স থেকে একে একে বের করা হয় ৩৫ বস্তা টাকা। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নেন কয়েকশ মানুষ। পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসা ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার প্রায় ৩৬০ জন ছাত্র, মসজিদের নিজস্ব স্টাফ এবং রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বিরতিহীনভাবে টাকা গণনার কাজ সম্পন্ন করেন।টাকা ছাড়াও দানবাক্সে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালঙ্কার এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানিয়েছেন যে এই বিপুল অর্থ মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
বিশেষ করে পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি ১০ তলা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। সেখানে এতিমদের পড়ালেখা, সমৃদ্ধ পাঠাগার এবং আইটি সেকশনসহ আধুনিক সব সুবিধা থাকবে। পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন পুরো প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেছেন। কিশোরগঞ্জের এই মসজিদটি এখন সারাদেশের মানুষের কাছে এক বড় কৌতূহল ও আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন