জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই এবং আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশের ছাত্রসমাজ সচেতন হয়েছে এবং তারা বাংলার মাটিতে আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদকে মেনে নেবে না। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক নির্বাচনী ছাত্র প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে ছাত্রদের ওপর অকথ্য জুলুম চালানো হয়েছে, আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালায় ভাইদের আটকে রাখা হয়েছিল শুধু আল্লাহর দ্বীনের পথে আহ্বান জানানোর কারণে।
জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, একটি দল ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তবে ছাত্রশিবির ছাত্রদের নৈতিকভাবে ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে তাদের আল্লাহর গোলামির উপযোগী করতে কাজ করে। তিনি নমরুদ ও ফেরাউনের উদাহরণের কথা টেনে বলেন।
সাম্প্রতিককালে একজন ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদায়ের পর আরও একজন ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। তবে বাংলার ছাত্রসমাজ এখন ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থাকবে।উপজেলা উত্তর ছাত্রশিবির সভাপতি নাসিম মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক আলা উদ্দিন আবির এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত। বক্তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে ছাত্রদের প্রতিটি ঘরে ঘরে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির শাহ মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা কাশিনগর বাজারে একটি বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের প্রতীক `দাঁড়িপাল্লা` এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে `হ্যাঁ` ভোটের পক্ষে প্রচার চালান। সাধারণ ছাত্রদের মাঝে নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চৌদ্দগ্রামের এই ছাত্র সমাবেশ আগামী নির্বাচনে জামায়াত ও শিবিরের সাংগঠনিক শক্তির এক বড় মহড়া হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন