মার্চ ৮, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় লবণের ভরা মৌসুমে ব্যাপক দরপতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় যা কেজিপ্রতি দরে দাঁড়ায় মাত্র ৪ টাকা। অথচ জমি ইজারা, শ্রমিকের মজুরি এবং পলিথিনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা।
উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লবণের দ্বীপ হিসেবে পরিচিত কুতুবদিয়ার সাড়ে চার হাজার চাষি এখন চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। গত মৌসুমেও লোকসান করায় এবার অন্তত ৫০০ একর জমি পতিত পড়ে রয়েছে।
উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ ধুরুং এবং আলী ফকির ডেইলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে লবণের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাদের পুঁজি হারানোর উপক্রম হয়েছে। অনেক চাষি গত মৌসুমেও লক্ষাধিক টাকা লোকসান গুনেছেন।
চলতি বছর উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ হলেও বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা আসন্ন ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নারায়ণগঞ্জ ও খুলনার লবণ মিলগুলোর বেঁধে দেওয়া দরের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় পাইকাররা দাম নির্ধারণ করায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।এই সংকটের সমাধান হিসেবে কুতুবদিয়া-মহেশখালী আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সংসদে একটি স্বতন্ত্র লবণ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় লবণ আমদানির তোড়জোড় চললেও চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় তা প্রতিহত করা হয়েছে। কৃষকদের বাঁচাতে লবণ আমদানির বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী বাজার নীতিমালা প্রণয়ন এবং লবণ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে চাষিদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন