মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের টুপি কারিগররা এখন পার করছেন অত্যন্ত ব্যস্ত সময়। জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর এলাকায় ঘরে ঘরে এখন চলছে সুতা আর কুশ কাঁটার নিপুণ কারুকাজ। এখানকার গ্রামীণ নারী ও পুরুষদের নিপুণ হাতের তৈরি বাহারি এসব টুপি এখন শুধু পঞ্চগড় বা দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।
ঈদের নামাজে নতুন টুপি পরার বিশেষ চাহিদাকে কেন্দ্র করে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন এই অঞ্চলের কারিগররা।আজিজনগর এলাকার চিত্র ঘুরে দেখা যায়, সেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কারিগররা বিভিন্ন ডিজাইনের টুপি তৈরিতে মগ্ন।
স্থানীয় কারিগর হারুন মিয়া এই টুপি তৈরির কারিগরদের মধ্যে অন্যতম অনুপ্রেরণা। এক সময় শখের বসে ইউটিউব দেখে টুপির বুনন শেখা এই যুবক এখন পেশাদার কারিগর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রথমদিকে কেবল পরিবারের সদস্যদের জন্য টুপি তৈরি করলেও গুণমান ভালো হওয়ায় ধীরে ধীরে এটি বাণিজ্যিক রূপ নেয়। বর্তমানে তার তৈরি টুপির চাহিদা দেশের বাইরেও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঈদের আগে বাড়তি অর্ডারের চাপ থাকায় এলাকার অনেক গৃহিণী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীও এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। পড়াশোনা বা গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে তারা টুপি বুনছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের কাজের দক্ষতা বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবারে আসছে বাড়তি অর্থ। টুপি বুননের এই ধারা পঞ্চগড়ের অনেক পরিবারের জন্য আয়ের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা ঘরে বসেই এই কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
স্থানীয় কারিগররা জানান, হাতে তৈরি এই টুপির বিশেষত্ব হলো এর সূক্ষ্ম কারুকাজ ও টেকসই বুনন। এই গুণের কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড় থেকে তৈরি হওয়া এসব টুপি ইরাক, ইরান, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় রপ্তানি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি গ্রাম থেকে এসব টুপি সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠান। বিসিকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারি সহযোগিতা ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এই হস্তশিল্প ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের আরও বড় অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন