মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফে মাত্র ছয়জন মুসল্লি নিয়ে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক। বৃহস্পতিবার সকালে সাদ্রা দরবার শরীফের প্রয়াত পীর মাওলানা ইছহাক সাদ্রাবীর মেজো ছেলে মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক তার নিজ বাড়ির আঙিনায় এই জামাতের আয়োজন করেন।
দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪০টি গ্রামে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপনের রীতি চালু থাকলেও বর্তমানে পীরের বংশধরদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে আগাম ঈদ উদযাপনে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক গত বছর থেকে অন্যদের চেয়েও একদিন আগে অর্থাৎ মূল ঈদের দুই দিন আগেই জামাত আদায় করে আসছেন। তার দাবি অনুযায়ী বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে এবং ঈদ উদযাপিত হলে সেই সাথে ঈদ করা জায়েজ। আফগানিস্তানে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরের ভিত্তিতে তিনি এই বছর আগাম ঈদের সিদ্ধান্ত নেন।
জামাতে তিনি নিজেই ইমামতি করেন এবং তার অনুসারী স্বল্প সংখ্যক মুসল্লি এতে অংশ নেন। পীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সাধারণত সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ পালন করলেও মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিকের এই ভিন্ন অবস্থান স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।সাদ্রা দরবার শরীফের বর্তমান পীর মুফতি আরিফ বিল্লাহ সাদ্রাবী এবং তার চাচা জাকারিয়া আল মাদানী সাধারণত সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে পৃথক জামাতে ঈদ পালন করেন।
তবে মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক এই বছর আফগানিস্তানের সময় অনুসরণ করে সবার আগে ঈদের নামাজ শেষ করলেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের এই গ্রামে পীর ইছহাক সাদ্রাবীর মৃত্যুর পর থেকেই উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের ক্ষেত্রে এমন বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পীরজাদা আবু বক্কর ছিদ্দিক মনে করেন চাঁদ দেখার আন্তর্জাতিক সংবাদ পাওয়ামাত্রই ধর্মীয় উৎসব পালন করা শরীয়তসম্মত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন