মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর রাকিবুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ একটি ভাড়াটে খুনিচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহবাগ থানা এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম এই তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. গোলাম রসুল শিহাব, মো. রাফিন শেখ, শাহারিয়ার নাজিম জয়, মো. সাগর ফকির এবং মো. সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে গত ১৫ মার্চ রাতে শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে মোটরসাইকেল পার্ক করার সময় রাকিবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ৫ থেকে ৬ জনের একটি সশস্ত্র দল। হামলাকারীরা পেছন থেকে পিস্তল দিয়ে রাকিবুলকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছুড়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার রাতেই স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথম অভিযুক্ত গোলাম রসুল শিহাবকে আটক করা সম্ভব হয়।শিহাবকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার লবণচরা এলাকা থেকে রাফিন শেখ ও শাহরিয়ার নাজিম জয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরবর্তী অভিযানে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে সাগর ফকিরকে আটক করা হয়। অন্যদিকে ১৮ মার্চ ভোররাতে সিটিটিসি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় সাকার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান সাকা খুলনা অঞ্চলের একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং টাকার বিনিময়ে খুন করা একটি সংগঠিত চক্রের প্রধান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। পূর্বশত্রুতার জেরে ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে রাকিবুলকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এই খুনিচক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে টাকার বিনিময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে খুনিদের আইনের আওতায় আনাকে পুলিশের সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন