মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর-ধনঞ্জয়খালী সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার ঘটনায় দায়িত্বরত দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় সরকার এই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। সোমবার ২৩ মার্চ দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন প্রকল্পের পরিচালক হারুন অর রশিদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী শামছুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী নিজেই বরখাস্তের চিঠি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান যে প্রাথমিক তদন্তে সড়ক নির্মাণে চরম গাফিলতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে। যদিও সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কিছু প্রভাব ছিল তবে কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়মই এই ধসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে জনগণের অর্থের অপচয় বা নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আগের সব তদন্ত কমিটি বাতিল করে সাত সদস্যের একটি নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উদ্বোধনের আগেই সড়কের বিশাল অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ধসে যাওয়া সড়কের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এলাকাবাসীর দাবি কেবল বরখাস্ত নয় বরং এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার জানিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন