মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। প্রকৃতির সবুজ আর প্রাচীন স্থাপত্যের টানে হাজারো মানুষ এখানে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ঐতিহাসিক স্থাপনায় ছুটে এসেছেন।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং প্রতিবেশী জেলাগুলো থেকে আসা পর্যটকরা পাহাড়পুরের শান্ত পরিবেশ ও বিশালতায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। সোমপুর মহাবিহারের অনন্য স্থাপত্যশৈলী নতুন প্রজন্মের দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান ফজলুল করিম আরজু জানিয়েছেন যে এবারের ঈদের প্রথম দিনেই প্রায় ১৬ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। এর পরের দিনগুলোতেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত লক্ষণীয়। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং বিহারের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে ঈদকে কেন্দ্র করে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্বীকৃত। অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ বা নবম শতাব্দীতে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব এটি নির্মাণ করেছিলেন।
বর্গাকার এই বিহারের মাঝখানে রয়েছে একটি বিশাল মন্দির যা ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অনন্য। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করার পর এর গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিহারের দেয়ালে থাকা পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটাগুলো সে সময়ের সমাজ ব্যবস্থা ও মানুষের জীবনযাত্রার পরিচয় বহন করে। প্রাচীন এই নিদর্শনের টানে প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বড় একটি অংশ এখানে সমবেত হন যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতকে গতিশীল করে তুলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন