মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় আজ শুক্রবার সকাল থেকে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি বিশেষ ডুবুরি দল সকাল আটটার পর থেকে নদীতে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় আলো স্বল্পতার কারণে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস রাজবাড়ী স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, বর্তমানে উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ছয়জন এবং নৌবাহিনীর ছয়জন ডুবুরি অংশ নিচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে ২৫টি ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি একজনের মরদেহ বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত ওই ব্যক্তির স্বজনরা দিনাজপুর থেকে রওনা হয়েছেন এবং তারা পৌঁছালে নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ১৮ জনের মধ্যে ১৭টি পরিবারকে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকা করে জরুরি সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একটি পরিবার বর্তমানে জেলার বাইরে অবস্থান করায় তাদের সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করে সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের তৃতীয় দিনে নতুন করে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আবেদন করেছেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের রিপন শেখের পরিবার। তার ছোট বোন মুক্তা আক্তার জানিয়েছেন, গত বুধবার থেকে তার ভাই নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিনি ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তবে তিনি নিশ্চিত নন যে তার ভাই ওই নির্দিষ্ট বাসের যাত্রী ছিলেন কি না।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে নতুন কোনো মরদেহ পাওয়া গেলে নিখোঁজ দাবিকৃত ব্যক্তির বর্ণনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। গত বুধবার বিকেলে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পকেটের সামনে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস সরাসরি নদীতে পড়ে গেলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নদী এলাকায় শোকাতুর মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন