মার্চ ২৮, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি কাটিয়ে নাড়ির টান ও স্বজনদের মায়া ছেড়ে আবারও কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। শনিবার ভোর থেকেই রাজধানীর প্রধান প্রবেশপথ ও পরিবহন টার্মিনালগুলোতে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গাবতলী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই ছিল কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততা। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে নতুন উদ্যমে কাজে যোগ দিতেই এই জনস্রোত ফিরছে যান্ত্রিক শহরে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীদের তথ্যানুযায়ী, গাবতলী বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার বাসের চাপ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা যাত্রীরা বাস থেকে নেমেই নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
যদিও পথে কিছু কিছু পয়েন্টে ধীরগতি ও টার্মিনালের ভেতরে অটোরিকশার বিশৃঙ্খলার কারণে যাত্রীদের কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ যাত্রীই জানিয়েছেন, বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা চরম ভোগান্তি ছাড়াই তারা ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছেন। যাত্রা পথে যানজট ও অব্যবস্থাপনা কমিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে।রেলপথের চিত্রও প্রায় একই রকম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রী বোঝাই।
বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল থেকে আসা ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনগুলো সময়মতো পৌঁছালেও সকালে হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের তিন ঘণ্টা বিলম্বে আসার খবর পাওয়া গেছে। এতে ক্লান্ত যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল মানুষের ঢল। শুক্রবার গভীর রাত থেকেই লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তে শুরু করে এবং ভোর নাগাদ তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সদরঘাটে নামার পর যাত্রীরা সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া দাবির কারণে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ব্যাগপত্র ও পরিবার নিয়ে এই বাড়তি ভাড়ার চাপে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। তা সত্ত্বেও প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সোনালী মুহূর্তের স্মৃতি নিয়ে নতুন দিনের কর্মস্পৃহা নিয়ে শহরে পা রাখছেন সবাই। পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে দ্রুত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোই এখন সবার প্রধান লক্ষ্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন