রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তেল নিতে গিয়ে হামলার শিকার চাকসু নেতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

তেল নিতে গিয়ে হামলার শিকার চাকসু নেতা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চাকসু নেতাহাসপাতালে চিকিৎসাধীন চাকসু নেতা

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এক নেতা। গত সোমবার রাত আটটার দিকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এম আলম ফিলিং স্টেশনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। হামলার পর আহত ওই নেতাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে আলোচনা চলছে সারাদেশের শিক্ষা অঙ্গনে।আহত নেতার নাম মাসুম বিল্লাহ। তিনি চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

ভুক্তভোগীর দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর অতর্কিত এই হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসু নেতাদের ভাষ্যমতে, সোমবার রাতে মাসুম বিল্লাহ ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে যান। 

ওই সময় রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল যুবক এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা সায়েদুর ইফাজ জানিয়েছেন, মাসুম বিল্লাহর চোখের ওপর গভীর ক্ষত রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

মাথায় আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।হামলার কারণ হিসেবে মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ৪ মার্চ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনায় হাটহাজারীর এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। 

প্রক্টর ও পুলিশের উপস্থিতিতে হওয়া সেই সমঝোতা বৈঠকে ওই অর্থ আদায় করা হয়েছিল। মূলত সেই ক্ষতিপূরণ আদায়ের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সহরাওয়ার্দী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদারকি করছে। উপাচার্য নিজে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং আহত শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে হাটহাজারী থানায় এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এই হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।