সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

ক্লাস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা ধস, আহত ৭ শিক্ষার্থী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

ক্লাস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা ধস, আহত ৭ শিক্ষার্থী

স্কুলে পলেস্তারা ধস

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে অন্তত সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির ওই কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। এমন সময় কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই সিলিংয়ের পলেস্তারা বড় বড় চাঙড় হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর খসে পড়ে। এতে সাদিয়া আক্তার, নাদিয়া আক্তার ও রিতু বনিকসহ সাতজন শিক্ষার্থী আহত হন। 

আহতদের মধ্যে তিনজনের মাথায় এবং অন্য একজনের পিঠে গুরুতর আঘাত লেগেছে। ঘটনার পরপরই শিক্ষক ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। 

বর্তমানে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।শ্রেণিকক্ষে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী নাদিরা ও সাদিয়া জানায় যে, তারা ক্লাসে পড়াশোনা করছিল, এমন সময় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর ধুলোয় ভরে যায় এবং সহপাঠীরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে যে, এই পুরোনো ভবনটি দীর্ঘ দিন ধরেই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো সংস্কার কাজ করা হলেও তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম এ বিষয়ে বলেন যে, পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হচ্ছিল। তিনি আরও জানান যে, নতুন ভবনের জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল এবং স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বারবার এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সহযোগিতা বা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

রায়পুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, স্কুল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় বাজেট বা বরাদ্দ না থাকায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত সংস্কার কাজ বা বিকল্প ব্যবস্থার জন্য পুনরায় তাগিদ দিয়েছেন বলে জানান। এই দুর্ঘটনার পর অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দ্রুত নিরাপদ ভবন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।