এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার প্রচারণাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে ৪ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে মনসুরাবাদ বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীকেও মোতায়েন করতে হয়। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার পর বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় দুদিন আগে। মনসুরাবাদ গ্রামের কিশোর রাহাত একটি ফুটবল খেলার প্রচারণার জন্য এলাকায় মাইকিং করছিল। সেই সময় পার্শ্ববর্তী খাপুরা গ্রামের জাহিদ ও আজিমের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাটি দ্রুত গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে মারধর করে খাপুরা গ্রামের একদল যুবক। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার রাতেই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।শুক্রবার রাতের সেই রেশ ধরে শনিবার সকাল ৭টা থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামবাসী এবং অন্য পক্ষে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলে পড়ে।
দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সড়কি ও ইটের টুকরো নিয়ে উভয় পক্ষ কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চালায়। এ সময় মনসুরাবাদ বাজারের দোকানপাটের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। উন্মত্ত জনতা দোকানগুলোর বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙে ফেলে এবং ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া এই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের ভয়াবহতা বাড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। তবুও উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা যাচ্ছিল না। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, কয়েক হাজার মানুষের এই বিশাল সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে বাজার এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল চলছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলতে ভয় পাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন