এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘জুলাই-আগস্ট’ আন্দোলনের দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি মুছে নতুন করে লেখা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনভর চলা এই সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও কিছু পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই দেয়ালে ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা একটি গ্রাফিতি ছিল। অভিযোগ উঠেছে, কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল কর্মী ওই গ্রাফিতির ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেয়।
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। বেলা ১২টার দিকে এই উত্তেজনা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়, যা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী ছিল। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।বিকেলের এই দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের এক কর্মী গুরুতর আহত হন, যার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার দাবি উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত ওই কর্মীকে সহকর্মীরা রিকশায় তুলছেন এবং তাঁর পায়ের নিচের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ঝুলছে। ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষা দিতে আসা তাঁদের কর্মীরা কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই হামলার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে, শিবিরের কর্মীরাই প্রথমে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাঁদেরও বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম জানান, ক্যাম্পাসে বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও একটি বিশেষ পক্ষ সেখানে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রাফিতি মোছার ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো কড়া পাহারায় চলমান রয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পরপরই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা নিরসনে উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে। যেকোনো ধরণের বড় সংঘাত এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন