শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো পরিত্যক্ত মর্টার শেল

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

পঞ্চগড়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো পরিত্যক্ত মর্টার শেল

উদ্ধারকৃত পরিত্যক্ত মর্টার শেল -ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড় পৌরসভার পশ্চিম জালাসী এলাকায় সুপারি বাগান করার জন্য জমি তৈরি করতে গিয়ে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে এই ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জননিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। 

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মর্টার শেলটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও মরিচা ধরা বলে জানা গেছে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জমির মালিক হোসেন আলী জানান, তাঁর ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। 

মঙ্গলবার তিনি কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে সেখানে সুপারি বাগান করার উদ্দেশ্যে নালা তৈরির কাজ শুরু করেন। কাজ করার সময় শ্রমিক জাহেদুল ইসলামের কোদাল মাটির নিচে শক্ত কোনো ধাতব বস্তুতে আঘাত করলে একটি ঝনঝন শব্দ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে প্রায় এক ফুট গভীর থেকে লোহার দণ্ড সদৃশ বস্তুটি বের করে আনেন শ্রমিকরা। 

বিপজ্জনক হতে পারে তা বুঝতে না পেরে শ্রমিকরা কোদাল দিয়ে সেটির ওপরের মাটি ও মরিচা পরিষ্কার করেন এবং বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে রাখেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে হোসেন আলী ও তাঁর ছেলে সোহান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।এলাকার ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ শ্রমিক সমর আলী জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জালাসী এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা ‘খান সেনারা’ একাধিক মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছিলেন। ওই সময় এই নির্দিষ্ট স্থানে তিনটি মর্টার শেল পড়ার কথা তাঁর স্পষ্ট মনে আছে। 

সেই সময় দুটি বিস্ফোরিত হলেও সম্ভবত এটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে ঢাকা পড়ে ছিল। স্থানীয় অন্যান্য বয়োবৃদ্ধরাও সমর আলীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে দাবি করেছেন, এটি নিশ্চিতভাবেই যুদ্ধকালীন ফেলে রাখা বোম।পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত বস্তুটি দেখতে হুবহু একটি মর্টার শেলের মতো। তবে এটি কত সালে তৈরি বা কোথায় ব্যবহৃত হয়েছিল, সে সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের পরিত্যক্ত কোনো যুদ্ধাস্ত্র। পুলিশ বর্তমানে শেলটি সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষণ করছে এবং সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলটি আসার পর তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এটি নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশি প্রহরা জোরদার করা হয়েছে এবং উৎসুক জনতাকে শেলটির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিশেষ দল না আসা পর্যন্ত এটি পুলিশের পর্যবেক্ষণে থাকবে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করলেও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।