শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প

চট্টগ্রামে মাটি খননের সময় ২ শ্রমিকের মৃ‍‍`ত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

চট্টগ্রামে মাটি খননের সময় ২ শ্রমিকের মৃ‍‍`ত্যু

মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের খনন কাজ করার সময় মাটি ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে আগ্রাবাদ বি-ফোর এক্সেস রোড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

নিহতদের মধ্যে তুষার নামের এক শ্রমিকের বাড়ি দিনাজপুর জেলায় বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডের সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনের অংশে ওয়াসার স্যুয়ারেজ পাইপ বসানোর জন্য বড় গর্ত করে মাটি কাটার কাজ চলছিল। 

ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ করে গর্তের ওপরের মাটি ধসে পড়লে চারজন শ্রমিক নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দুই শ্রমিকের নাম রাকিব ও তুষার। তুষারের বাড়ি দিনাজপুরে হলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। আহত দুই শ্রমিক সাগর ও এরশাদ বর্তমানে হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের আওতায় ওই অংশে ট্রায়াল পিট করার কাজ চলছিল। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো এই প্রকল্পের কাজ করছে। গভীর রাতে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে এই ঘটনার বিস্তারিত এক্সিডেন্ট রিপোর্ট তলব করেছে।ওয়াসার এই কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনরা চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন। 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে ওয়াসা সমন্বয় করছে। যদিও জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না, তবুও মানবিক দিক বিবেচনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, মাটির গঠন ও খনন পদ্ধতির কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের নিরাপত্তার বিষয়গুলো ঠিকঠাক মানা হয়েছিল কি না সেটিও তদন্তের দাবি রাখছে।