রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁওয়ে গভীর রাতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রবিউল এহ্সান রিপন

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে গভীর রাতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ছবি-দিনাজপুর টিভি

সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে গভীর রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে জনপদ। হঠাৎ শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়া এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

রোববার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আচমকা জেলাজুড়ে এই ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। তীব্র বাতাসের সঙ্গে মুহুর্মুহু বজ্রপাত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ করে তোলে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একটানা ঝড়ের দাপট চলার পর বাতাসের গতি কিছুটা কমলেও ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। আকস্মিক এই দুর্যোগে গভীর ঘুমে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

জেলার সদর উপজেলা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ঝড়ের আঘাত সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঝড়ের তীব্রতায় বেশ কিছু বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। ঝোড়ো বাতাসের কারণে কৃষকের স্বপ্নের ভুট্টার ক্ষেতসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ঝড়ের শুরুতেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চল রাতভর অন্ধকারে ডুবে ছিল।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ ঝড়ের এমন ভয়াবহ রূপ তারা আগে খুব একটা দেখেননি। পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার সামান্যতম সুযোগ না থাকায় অনেকেই ঘরের ভেতর জড়োসড়ো হয়ে আতঙ্কে সময় পার করেছেন। এদিকে দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে ভোর থেকেই মাঠে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এর আগে গত শনিবার সকালেও জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছিল। সেই ক্ষয়ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার রাতের ঝড়ে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, টানা দুই দিনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষের মধ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গত শনিবারের ঝড়ে একজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশাখ মাসে উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলে কালবৈশাখীর প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।