রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসনের পাহারায় কালোবাজারির তেল বিক্রি

রবিউল এহ্সান রিপন

এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসনের পাহারায় কালোবাজারির তেল বিক্রি

ছবি-দিনাজপুর টিভি

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে কালোবাজারি থেকে সংগৃহীত জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার উপজেলা শহরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ঠিক পাশেই অবস্থিত এস আর ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এমন চিত্র দেখা যায়। সেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই নিয়মবহির্ভূতভাবে অকটেন বিক্রি করা হচ্ছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এস আর ট্রেডিং নামের ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোটরসাইকেল আরোহীদের ফুয়েল কার্ড যাচাই করছেন। 

সব আয়োজন দেখে মনে হতে পারে এটি একটি বৈধ ফিলিং স্টেশন। তবে প্রকৃত চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে প্রতি লিটার অকটেন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের উপস্থিতি থাকায় সাধারণ মানুষ এই অবৈধ কার্যক্রমকে বৈধ বলেই মনে করছেন।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের অনুমোদিত ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করে ফিলিং স্টেশনগুলো পেট্রোল বা অকটেন বিক্রির অধিকার রাখে। তেল বিক্রয়কারী অন্যান্য এজেন্সিগুলো শুধুমাত্র ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রির অনুমতি পায়। সেই হিসেবে এস আর ট্রেডিংয়ে এই অকটেন বিক্রির প্রক্রিয়াটি সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা একাধিক মোটরসাইকেল চালক জানিয়েছেন, তেলের সংকটের সুযোগে তারা এখান থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এটি বৈধ না অবৈধ সেটি তাদের বিবেচ্য নয়। চালকদের দাবি, যেহেতু প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ এখানে সরাসরি তদারকি করছেন, তাই বিষয়টি তাদের কাছে সরকারি উদ্যোগ বলেই মনে হয়েছে।

এ বিষয়ে এস আর ট্রেডিংয়ের মালিকের ছেলে মোহাম্মদ সুমনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তারা ওইদিন প্রায় ৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। তার দাবি, তারা বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানিয়েছেন এবং অনুমতি নিয়েই এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি আরও জানান, এই অকটেনগুলো আগে বিভিন্ন উৎস বা পার্টির কাছ থেকে অল্প অল্প করে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তবে প্রশাসনের উপস্থিতিতে অবৈধ তেল বিক্রির বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো অনুমতির সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি কার্যালয়ের পাশে প্রশাসনের পাহারায় এমন অবৈধ কারবার চললে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। যারা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন, তারা যদি নিজেরাই এমন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে ভুল বার্তা যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।