রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কাঁধে অসুস্থ মা রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ

শহিদুল ইসলাম

মে ৫, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

কাঁধে অসুস্থ মা রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ

ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী তিস্তা পাড়ের জনপদে আজও যাতায়াতের একমাত্র ভরসা মানুষের কাঁধ। আধুনিক যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যখন ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তখন এই এলাকার মানুষের এমন দুর্ভোগ চরম বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। 

জলঢাকায় রাস্তা নেই, তাই সম্প্রতি দুই যুবক তাদের অসুস্থ মাকে কাঁধে করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি চলাচলযোগ্য টেকসই রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে চাইলে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশের ন্যূনতম সুযোগ সেখানে নেই। 

ভাইরাল হওয়া দৃশ্যটিতে দেখা যায়, দুই যুবকের মুখে অসহায়ত্বের ছাপ। পিচ্ছিল পথ আর এবড়োখেবড়ো মাটির আইল ধরে তারা বৃদ্ধা মাকে কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটছেন হাসপাতালের দিকে। তিস্তা পাড়ের মানুষের কাছে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি তাদের নিত্যদিনের রূঢ় বাস্তবতা।বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে এলাকাটি মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে সময় শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ হয়। 

স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় নিয়মিত।স্থানীয় একজন বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হলে আমাদের আদিম যুগের মতো কাঁধে করে নিতে হয়। আমাদের এই কষ্টের শেষ কোথায়?

তিস্তা পাড়ের এই অবহেলিত জনপদ এখন একটি টেকসই রাস্তার অপেক্ষায়। মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রযুক্তির এই সময়ে এসে নীলফামারীর এই জনপদের মানুষকে আর কতদিন এমন কষ্ট সইতে হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে।