মে ৬, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (৬ মে) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি ওই এলাকায় হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ২০২২ সালে তিনি এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান তিনি। গত ১৮ এপ্রিল ওই শিক্ষক ছুটিতে যাওয়ার পর আর মাদরাসায় ফেরেননি। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশুটিও গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি বিস্তারিত জানায়।
এরপর তাকে মদন উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা এবং তার শরীরে প্রচণ্ড রক্তশূন্যতা রয়েছে।এ ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মদন থানায় আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন। বুধবার সকালে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। র্যাব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। বর্তমানে শিশুটির পরিবার চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন