রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ধর্ষণে ১১ বছরের মাদরাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, ডাক্তারকে হত্যার হুমকি!

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

ধর্ষণে ১১ বছরের মাদরাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, ডাক্তারকে হত্যার হুমকি!

নেত্রকোনায় ১১ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা প্রকাশ করায় এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানা বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। 

সেখানে কর্মরত সরকারি চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।ঘটনার পর ডা. সায়মা আক্তার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্নভাবে আক্রমণ শুরু হয়। 

এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেছেন যে সত্য প্রকাশের পর থেকে তাকে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, সাইবার বুলিং এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ডা. সায়মার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে কথা বলার পর হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছে এবং তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।অভিযোগ উঠেছে যে ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত পক্ষ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে চিকিৎসকের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তথ্যটি সামনে চলে আসে।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর আত্মগোপনে চলে গেলেও অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে র‍্যাব। বর্তমানে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা সরব হয়েছেন। দেশে ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার এই ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।