শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফেনীর ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, ডিএনএ রিপোর্টে বেরিয়ে এলো সত্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৭, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

ফেনীর ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, ডিএনএ রিপোর্টে বেরিয়ে এলো সত্য

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় দায়ের হওয়া এক আলোচিত ধর্ষণ মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। বরং ভুক্তভোগী কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে তার বড় ভাই মোরশেদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পরশুরাম থানা পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোরীর বড় ভাই মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই কিশোরীর পরিবার মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মোজাফফর আহমদকে গ্রেপ্তার করলে তাকে এক মাস দুই দিন কারাগারে কাটাতে হয়। 

এই ঘটনার পর তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব হারানোর পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চাকরি থেকেও বরখাস্ত হন।তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যরা লোকলজ্জার ভয়ে মূল ঘটনা আড়াল করতে মোজাফফর আহমদকে মামলায় জড়ান বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।

পরবর্তীতে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে তার ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। এতে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ। অভিযুক্ত মোরশেদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, মিথ্যা অভিযোগে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মামলার খরচ চালাতে তাকে পৈত্রিক জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি এই অন্যায়ের বিচার এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

তার আইনজীবী আবদুল আলীম মাকসুদ বলেন, এটি শুরু থেকেই একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়েছে এবং একজন নিরপরাধ ব্যক্তি কলঙ্কমুক্ত হয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। স্পষ্ট হয়েছে যে, একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমানে মোরশেদকে অভিযুক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মূলত ফরেনসিক বিজ্ঞানের সহায়তায় এই মামলার আসল অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।