রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নারায়ণগঞ্জে বাসায় বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

নারায়ণগঞ্জে বাসায় বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

ফতুল্লায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় ফ্রিজের কম্প্রসার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার ভোরে ফতুল্লার শিবু মার্কেট সংলগ্ন কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন অটোরিকশা চালক আব্দুল কাদের এবং তার তিন কিশোর ছেলে মেহেদী, সাকিব ও রাকিব। 

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে বিস্ফোরণের সময় বাবা ও ছেলেরা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন তবে ভাগ্যক্রমে তাদের মা রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে থাকায় অক্ষত রয়েছেন। স্থানীয়রা বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন যে ঘরটির দরজা ও জানালা বিস্ফোরণের তোড়ে ভেঙে পড়েছে এবং ভেতর থেকে দগ্ধদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।

প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দগ্ধ চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে আব্দুল কাদেরের শরীরের প্রায় সাতান্ন শতাংশ পুড়ে গেছে যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। 

তার তিন ছেলের মধ্যে রাকিবের পঁচিশ শতাংশ এবং বাকি দুজনেরও শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে অন্তত দুজনের শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমানে তারা সবাই হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান আছে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে ওই বাসায় দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা গ্যাস অথবা ফ্রিজের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কম্প্রসারটি বিস্ফোরিত হতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছেন। 

আব্দুল কাদেরের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং তারা একটি একতলা ভবনে ভাড়া থাকতেন। জীবিকার তাগিদে বাবা ও ছেলেরা ছোটখাটো কাজ করে সংসার চালাতেন। এমন একটি দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এলাকাবাসী জানান যে ভোরে হঠাৎ বজ্রপাতের মতো আওয়াজে সবার ঘুম ভেঙে যায় এবং ঘরটির ভেতরে আগুনের ফুলকি দেখা দেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ঘরের আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ফতুল্লা থানা পুলিশ জানিয়েছে যে তারা এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে।