মে ১৩, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
১২ মে বিশ্ব সেবিকা দিবস উপলক্ষে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও নার্সদের শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তবে এবারের নার্স দিবসে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজঘোনা গ্রামের একটি পরিবারের পাঁচ বোনের গল্প দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা ও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। সেবার মানসিকতা আর প্রয়াত পিতার স্বপ্ন পূরণ করতে এই একই পরিবারের পাঁচ বোনই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নার্সিং।
মাইজঘোনা গ্রামের বাসিন্দা কালু সওদাগরের ১০ মেয়ে ও ২ ছেলের মধ্যে এই পাঁচ কন্যা আজ স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। পিতা কালু সওদাগরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল তাঁর কন্যারা বড় হয়ে আর্তমানবতার সেবা করবে। পিতার সেই ইচ্ছাকে পাথেয় করে একে একে পাঁচ বোনই ভর্তি হন নার্সিং পেশায়। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তারা আজ প্রত্যেকেই দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন হাসপাতালে মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
পিতার স্বপ্নের এই পাঁচ সারথি বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত। তাঁরা হলেন— ১. পারেছা আক্তার: সিনিয়র স্টাফ নার্স, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল। ২. সেতারা আক্তার রিমা: সিনিয়র স্টাফ নার্স, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
৩. রায়হান জান্নাত: সিনিয়র স্টাফ নার্স, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ‘সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল’ (MSF)। ৪. নাজমীম সোলতানা: সিনিয়র স্টাফ নার্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজস্থলী, রাঙামাটি। ৫. শান্তা মারিয়া জয়নব: বিএসসি ইন নার্সিং শেষ করে কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।সাফল্যের এই আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়ে পারেছা আক্তার বলেন, “আজ যখন আমরা সাদা অ্যাপ্রন পরে একসাথে দাঁড়াই, তখন মনে হয় বাবার স্বপ্ন সত্যিই পূরণ করতে পেরেছি। এই পেশা আমাদের কাছে কেবল জীবিকা নয়, এটি ইবাদতের মতো। বাবা হয়তো আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তিনি পরপার থেকে ঠিকই তাঁর পাঁচ মেয়ের এই সেবামূলক কাজ দেখে খুশি হচ্ছেন।
তাঁদের বড় বোন মোশাররফা বেগম, যিনি নিজে একজন শিক্ষিকা, গর্বিত হয়ে বলেন, “পিতা-মাতার স্বপ্ন যখন সন্তানদের হাত ধরে বাস্তবে রূপ নেয়, তখন তার চেয়ে আনন্দের আর কিছু থাকে না। আমার পাঁচ বোন আজ মানুষের জীবনের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে, এটা আমাদের পরিবারের জন্য বড় পাওয়া।”চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার এই বিরল কৃতিত্বের প্রশংসা করে বলেন, “তাদের এই পথচলা সত্যিই আনন্দদায়ক। সেবার এই মহান পেশায় তাদের সফলতা কামনা করছি। তাদের এই দৃষ্টান্ত সমাজের অন্যান্য পরিবারের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
একই পরিবারের পাঁচ বোনের নার্স হওয়ার এই ঘটনাটি কক্সবাজার ছাড়িয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক নেটিজেন এই পাঁচ বোনকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন