রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শেরপুরে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢলের পানি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ১০:০২ পিএম

শেরপুরে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢলের পানি

ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার চারটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় নালিতাবাড়ী উপজেলার গোল্লারপাড় এলাকায় চেল্লাখালি নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, চেল্লাখালি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

পানির তীব্র তোড়ে গোল্লারপাড় এলাকার বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে ওই এলাকার ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নালিতাবাড়ী ছাড়াও ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার মহারশি, ভোগাই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা জানান, হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় খেতের ধান তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে আছেন তারা। জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী না হলে অবশিষ্ট ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত কুমার ধর জানান, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে জেলার চারটি নদীর পানিই বাড়ছে। তবে শুধুমাত্র চেল্লাখালি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উজান থেকে আসা ঢলে দ্রুত পানি বাড়ছে। সন্ধ্যায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় নিচু এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে কাঁচা রাস্তা ও খেতের ফসল পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।