রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাজীপুরের ৫ খুন: পদ্মা নদী থেকে ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৪, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

গাজীপুরের ৫ খুন: পদ্মা নদী থেকে ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার

ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আলোচিত ৫ খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। সেই সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে বৃহস্পতিবার নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গত শুক্রবার রাতে একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৪), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)। 

এই ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা গত শনিবার কাপাসিয়া থানায় ফোরকানকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফোরকান পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ানোর পর গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে তাদের হত্যা করে পালিয়ে যান। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল।

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি বছরখানেক আগে কাপাসিয়ার রাউতকোনা এলাকায় একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল পুলিশ। সর্বশেষ ফোরকানের মরদেহ উদ্ধারের পর মামলার তদন্তে নতুন মোড় এল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।