জুন ২৩, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণের প্রলোভে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৬টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং আরও ৩টি জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।মোট ৯ জেলায় বন্যার এই নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সরকারি এই সংস্থার তথ্যমতে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর তীব্র পানির চাপে একটি প্রধান প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বোরো ধান, পাট ও বাদাম ক্ষেত সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে চলতি জুন মাসে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হলেও ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সংযোগ থাকা ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীর মাধ্যমে উজান থেকে আসা অতিরিক্ত পানি সরাসরি বাংলাদেশের নদীগুলোতে নেমে আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, দেশের সব প্রধান নদ-নদী বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং সোমেশ্বরী নদী বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমার অত্যন্ত ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পানির চাপ আগামী আরও অন্তত ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল এবং হাওর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তাহিরপুরের আনোয়ারপুর-সুনামগঞ্জ সড়কটি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় খাসিয়ামারা নদীর দুকূল উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় মঙ্গলকাটা বাজারসহ বেশ কিছু গ্রামীণ হাটবাজার জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবণতির দিকে যাওয়ায় স্থানীয় বন্যাদুর্গত বাসিন্দারা নিজেদের গবাদিপশু ও জরুরি ঘরের মালামাল নিরাপদ আশ্রয়ে বা উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন