রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৩, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যার আশঙ্কা

টানা কয়েক দিনের তীব্র পাহাড়ি ঢল, দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে দেশের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাক্ষুসে নদীর এই অনাকাঙ্ক্ষিত জলোচ্ছ্বাস সামাল দিতে নীলফামারীর ডালিয়ায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই সার্বক্ষণিকভাবে খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলোতে হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।পাউবোর বিশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিন এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢল একইভাবে অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির আরও ভয়াবহ অবনতি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

নদীর উপকূলীয় এলাকার কাঁচা রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে এবং আকস্মিক বন্যার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। উজান থেকে আসা পানির চাপে নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর চরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানিয়েছেন, ভারত থেকে আসা তীব্র ঢলের কারণে তিস্তার পানি মঙ্গলবার সকাল থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বেলা ৩টার সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পানি পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত মারাত্মক রূপ নিচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষায় মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হয়েছে।