জুলাই ৫, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীর বাবাকে মারধর ও মোটা অংকের টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক অপমান ও হুমকির মুখে আবুল কাসেম নামে ওই অভিভাবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। রোববার বেলা ১১টার দিকে দুওসুও ইউনিয়নে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাসেম পেশায় মুদি দোকানি ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করছেন। ঘটনার পর সাইফুল ছাত্রীর বাবা আবুল কাসেমের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইফুল ও তার লোকজন আবুল কাসেমকে মারধর করেন এবং প্রভাব খাটিয়ে পুরো পরিবারকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অভিযোগ করে বলে, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার সময় সাইফুল ও তার লোকজন তাকে মুখ চেপে অটোতে তুলে নিয়ে যান। শহরের একটি স্থানে নিয়ে তাকে জোর করে কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এ সময় বাবা ও ছোট ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিলে সে ভয়ে স্বাক্ষর করে। গত ১ জুলাই বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাইফুল আবারও টাকা ও মেয়েকে দাবি করে আবুল কাসেমকে মারধর করেন।
নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার জানান, সাইফুলের ভয়ে তারা চার দিন ধরে অন্য বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সকালে তার স্বামী বাড়িতে ফিরলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বুলবুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন