রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পায়ে লিখে মাস্টার্স পাস নীলা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাইলেন চাকরি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৮, ২০২৬, ১১:০১ এএম

পায়ে লিখে মাস্টার্স পাস নীলা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাইলেন চাকরি

জন্মগতভাবে দুটি হাত নেই, তাতে কী? অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মাস্টার্স পাস করেছেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নীলা খাতুন। সব যোগ্যতা ও শিক্ষাগত অর্জন থাকা সত্ত্বেও এখনো একটি চাকরির অপেক্ষায় কাটছে তার দিন। অবশেষে নিজের পরিবারকে নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির আবেদন জানিয়েছেন এই সংগ্রামী নারী।

নীলা খাতুন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ঝাঐল ইউনিয়নের চরবরধুল গ্রামের ওসমান গণির মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে কখনো বাধা মনে করেননি তিনি। পায়ের সাহায্যে লেখা, খাওয়া, পোশাক পরা—প্রতিটি কাজই তিনি নিজেই সম্পন্ন করেন। পরিবারের কাজেও নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন নীলা।

শিক্ষাজীবনে চরবরধুল দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল এবং কামারখন্দ ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম ও ফাজিল সম্পন্ন করেন। এরপর সিরাজগঞ্জের আহমেদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে অর্জন করেন কামিল বা মাস্টার্স ডিগ্রি। তিনি প্রমাণ করেছেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, মানুষের ইচ্ছাশক্তিই এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় দুবার অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এখনো কাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ মেলেনি তার।

নীলা খাতুন বলেন, আমি কখনো আমার প্রতিবন্ধকতাকে দুর্বলতা মনে করিনি। পড়াশোনা করেছি, নিজের কাজ নিজেই করি। আমি শুধু চাই, আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হোক এবং কাজ করার একটি সুযোগ চাই। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সরকারি একটি চাকরির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আল কায়েস বলেন, নীলা খাতুনের যোগ্যতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। তার মতো একজন সংগ্রামী ও মেধাবী নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়াটা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।