সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে জুমার নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় নাহিদ ইসলাম নামের চব্বিশ বছর বয়সী এক যুবককে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার উপজেলার বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় রক্তাক্ত ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তার বাবা পঞ্চান্ন বছর বয়সী সাইফুর রহমানও গুরুতর আহত হন।
তারা দুজনই বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আহত নাহিদের ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক হিরু অভিযোগ করেন, মসজিদে নামাজরত অবস্থায় তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। তার দাবি, স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়ের দাঁড়িয়ে থেকে এই হামলা পরিচালনা করান এবং হামলায় রেজাউল, আফজাল, জুনেল, সেবির, সুবাদসহ আরও সাত থেকে আটজন অংশ নেন।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাহিদের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়েরের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হোসাইন জানান, পূর্ববিরোধের জেরেই নামাজ চলাকালে প্রথমে নাহিদের ওপর এবং পরে তাকে রক্ষা করতে গেলে বাবার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমেদ জানান, সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুবায়ের ও নাহিদের মধ্যকার পূর্ববিরোধে নাহিদ দেড় থেকে দুই মাস কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে বের হন। আজ জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে সেজদারত অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমেদ হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না এবং একজন প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে একটি সেতু পরিদর্শনে ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, কিছু দিন আগে নাহিদ একজনকে গুরুতর আঘাত করেছিল এবং কারাগার থেকে বেরিয়ে এলাকায় চলাফেরা করায় স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি শুনেছেন।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা জানান, পূর্ববিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে এবং আহতদের উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন