বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
সংঘর্ষের ঘটনা

ক্রিকেটের বল নিয়ে বিরোধে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

ক্রিকেটের বল নিয়ে বিরোধে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

ছবি :সংগ্রহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ক্রিকেট খেলার বল অটোরিকশার কাচে পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলা সদরের সংলগ্ন শনির হাওরের পাড় ও সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কে এই সংঘর্ষ হয়। রামনগর, জয়পুর, ধুতমা ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে রামনগর গ্রামের শিশুরা সড়কের পাশে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল রাস্তায় চলাচলকারী একটি অটোরিকশার ওপর গিয়ে পড়ে। এতে অটোরিকশাটির কাচ ভেঙে যায়। অটোরিকশার মালিক মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তিনি ওই শিশুদের মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি মারামারি ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরবর্তীতে রামনগর গ্রামের প্রতিবেশী এবং আশপাশের আরও তিন গ্রামের লোকজন এই বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকেলে তাহিরপুর বাজারে রামনগরসহ অপরাপর গ্রামের লোকজনকে মারধর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ ওঠে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে। এর জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রামনগর গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকে আশপাশের চার গ্রামের লোকজনকে ‘যার যা কিছু আছে, তা নিয়ে’ বুধবার সকালে বেরিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকেই রামনগর সেতুসংলগ্ন মাঠে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চার গ্রামের লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। অন্যদিকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজন ফায়ার সার্ভিসসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান। তবে তাদের সেই শান্ত করার চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

বুধবার দুপুরে দুই পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দুইটার দিকে পুলিশ ও সালিশকারীদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, মসজিদের মাইকে সংঘর্ষে জড়ানোর আহ্বানের খবর পাওয়ার পরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ এড়াতে দুই পক্ষকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও দুপুরের দিকে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে থাকায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।