অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
দুর্গাপূজায় বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ আরও তিন জেলায়। শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা পাওয়ার পর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বিজিবির উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে পুরো নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সারাদেশের মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা পাহারা দেবে বিজিবি।
মণ্ডপগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিন্যাস তুলে ধরে বিজিবির এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সীমান্তরেখার আট কিলোমিটারের ভেতরে রয়েছে এক হাজার ৪২৫টি মণ্ডপ। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে এক হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম ও পাহাড়ি বা দূরবর্তী অঞ্চলে রয়েছে ১৮৩টি পূজামণ্ডপ।
নিরাপত্তা কৌশল চূড়ান্ত করার আগে মণ্ডপগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তাঘাট, স্থানীয় পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং তাৎক্ষণিক যোগাযোগব্যবস্থার দিকগুলো পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট ছক তৈরি করেছে বাহিনীটি। বিশেষ করে দুর্গম ও দূরবর্তী অঞ্চলের ১৮৩টি মণ্ডপে নিরাপত্তা সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে স্থাপন করা হয়েছে ২১টি বিশেষ বেজ ক্যাম্প।
সমন্বয় সহজ করতে মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে `শারদীয় সুরক্ষা` অ্যাপ্লিকেশন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সদর দপ্তর ছাড়াও মাঠপর্যায়ে আলাদা মনিটরিং সেল দিনরাত কাজ করছে। ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা এই সেলের রয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো, অপতথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তৎপরতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য জনসমক্ষে বা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের আগে তার সত্যতা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে ও আনন্দঘন পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসন সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিটি দিন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিজিবি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন