রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১৪৪ ধারা বলবৎ, থমথমে খাগড়াছড়ি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫, ১২:৪৯ পিএম

১৪৪ ধারা বলবৎ, থমথমে খাগড়াছড়ি

ছবি - সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে সহিংসতা ও সংঘর্ষের পর সদর উপজেলা ও পৌরসভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সারাদেশের মনোযোগ এখন এ জেলার দিকে, সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ফিরেছেন ২ হাজার পর্যটক।

পাহাড়ি এক মারমা শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের জেরে শুক্র ও শনিবারের সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সারাদেশের দৃষ্টি এখন খাগড়াছড়ির দিকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও খাগড়াছড়ি পৌরসভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে।

শনিবার জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়ির মহাজনপাড়া ও সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন আহত হন, যার ফলে জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা সিভিল সার্জন মো. ছাবের নিশ্চিত করেছেন, আহতদের মধ্যে ২১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং দুজন খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া জেলা সদরে সাত প্লাটুন বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে চলাচলকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। শহরের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং সকাল থেকে নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এই সহিংস পরিস্থিতির কারণে সাজেকে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজারের বেশি পর্যটককে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় শনিবার রাত সাড়ে ১০টার পর খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে আসা হয়।

এরপর রাত ১২টার মধ্যে তারা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে খাগড়াছড়ি ছেড়ে যান। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানান, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করেছে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে উত্তেজিত দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে তারা সতর্ক অবস্থানে আছেন।