মুস্তাফিজুর রহমান
অক্টোবর ১৫, ২০২৫, ১১:২৫ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
'কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (সিআরইএ) প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৫ পালিত হয়েছে।
১৫ অক্টোবর বুধবার সকালে ফুলছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে “জলবায়ু অভিযোজনে গ্রামীণ নারী” প্রতিপাদ্যে এক বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে চর এলাকার কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সচেতনতামূলক বার্তা সম্বলিত প্লে-কার্ড, ফেস্টুন হাতে র্যালীতে অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একজন গ্রামীণ নারী প্রতিদিন ১৬-১৮ ঘণ্টা পারিবারিক ও কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকলেও তাদের কাজের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না। জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় গ্রামীণ নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও নারীর এই অমূল্যায়িত শ্রম ছাড়া কৃষির উৎপাদন অসম্ভব। তারা গ্রামীণ নারীদের কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি ও স্বীকৃতির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের পথ সুগম করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ নারীদের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়:
গৃহস্থালীর অমূল্যায়িত কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন।
অমূল্যায়িত কাজে পরিবার পর্যায়ে পুরুষ ও বালকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ।
জাতীয় কৃষি অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীর অবদান ও ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদান।
নারী কৃষকদের কাজের প্রচার ব্যাপকভাবে বাড়ানো।
জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৩ অনুযায়ী, উৎপাদন ও বিপণনে নারীর অংশগ্রহণ এবং আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।
সম্পত্তিতে নারীর অধিকার বিষয়ক আইনকে যুগোপযোগী করা।
শ্রম বাজারে নারী কৃষকদের নিরাপদ ও অবাধ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা ও মজুরি বৈষম্য রোধে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ।
সিআরইএ প্রকল্প সমন্বয়কারী লাভলী খাতুন-এর পরিচালনায় এবং ফুলছড়ি ইউনিয়ন ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপের সদস্য আমিতন বেগম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রওশন আলী (উপজেলা জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোটের সদস্য), আব্দুল ওয়াহেদ (সহকারী শিক্ষক), নারী দলের সভাপতি চন্দ্রভানু, হামিদা বেগম, শাহিনুর বেগম প্রমুখ।
একইভাবে ফজলুপুর ইউনিয়নের চন্দনস্বরেও দিবসটি উদযাপিত হয়।