সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উত্তরা ইপিজেডে ৪ কারখানা বন্ধ, বিক্ষোভে নেমেছেন শ্রমিকরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ০২:১৭ পিএম

উত্তরা ইপিজেডে ৪ কারখানা বন্ধ, বিক্ষোভে নেমেছেন শ্রমিকরা

নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের মুখে উত্তাল হয়ে উঠেছে। বেতন-বোনাসসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের জের ধরে রোববার কর্তৃপক্ষ চারটি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শ্রমিকরা পুনরায় ইপিজেড এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কর্তৃপক্ষের নোটিশে বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ইপিএফ প্রিন্ট লিমিটেড, মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সেকশন সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।সোমবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ইপিজেড এলাকায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে, ইপিজেডের এই ক্রমাগত শ্রমিক আন্দোলনকে ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, দাবি-দাওয়া পেশকারী পক্ষ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার মালিকপক্ষ, উভয়ই বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতার সাথে সম্পৃক্ত, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক জানান, ‘আমাদের ভেতর অনেকেই বেতন বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। আমি যদিও এই আন্দোলনে ছিলাম না। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।’

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আরমান হোসেন নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই শ্রমিকরা কোনো কথাবার্তা নেই, কিছু হলেই আন্দোলন। আমরা এই ইপিজেডের আশায় লোন নিয়েছি, কীভাবে চলবো যদি এই কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায়? এই শ্রমিকরা কোনো কিছু না বুঝে অযথা আন্দোলন করে।’শ্রমিকদের আকস্মিক বিক্ষোভ ইপিজেড এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিলেও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিকেলের আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।