সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
নেত্রকোনা জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী এন আকন্দ আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক প্রভাষকের অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র নিয়ে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ও ১৭ আগস্ট মাদ্রাসার অফিস কক্ষে দিনের আলোতে ঘটনাগুলো ঘটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত দুটি পৃথক দিনের ভিডিও চিত্র সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এলে পুরো জেলায় তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে অভিযুক্ত প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হক বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সিসিটিভি ক্যামেরার উপস্থিতির পরও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল তা তাদের শঙ্কিত করেছে। ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত না থাকলে অনৈতিক এই ঘটনা কখনোই প্রকাশ পেত না উল্লেখ করে তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে মাদ্রাসায় নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদের কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন তারা।
এদিকে মধ্যবর্তী দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, গত ২০ আগস্ট ঘটনাটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের নজরে আসার পর অভিযুক্ত প্রভাষকের কাছ থেকে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়। তিনি এটিকে প্রাথমিকভাবে গৃহীত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেন এবং ঘটনাটির গভীরে যেতে পাঁচ সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত দল কাজ করছে বলে জানান।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের পাশাপাশি আরও একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন