জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
দিনাজপুরে জেঁকে বসা হাড়কাঁপানো শীত ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে আলু উত্তোলনের কাজ। পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিকের অভাবে ক্ষেত থেকে আলু না ওঠায় বাজারে সরবরাহ কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের বাজারে নতুন আলুর দাম কেজিতে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খুচরা বাজারে নতুন আলু জাতভেদে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা ৬০ টাকা পর্যন্তও ঠেকেছে। নতুন আলুর চড়া দামের কারণে নিম্নবিত্ত মানুষের ভরসা এখন পুরাতন আলু, যা ১২ টাকা কেজি দরে স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিক না পাওয়ায় চাহিদামতো আলু তোলা সম্ভব হচ্ছে না। যেটুকু আলু বাজারে আসছে, তার বড় অংশ ঢাকার পাইকারি বাজারে চলে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সংকট তৈরি হয়েছে। দুই দিন আগেও যে স্টারিস-৭ আলু ১৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৩০ টাকা। একইভাবে সাদা চল্লিশা, বিনা-সেভেন ও দেশি লাল আলুর দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে।
সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম জানান, বাজারে দাম বাড়লেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা খুব একটা লাভবান হচ্ছেন না। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে হাত বদলে আলুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।শহরের বাহাদুর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে নতুন আলুর উচ্চমূল্যের কারণে অধিকাংশ ক্রেতা পুরাতন আলুর দিকে ঝুঁকছেন, ফলে বাজারে পুরাতন আলুর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন