রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে নজর কাড়ছে ‘হলুদ ফুলকপি’, দাম ও চাহিদায় খুশি কৃষকরা

মো. আরিফ ইসলাম

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

বীরগঞ্জে নজর কাড়ছে ‘হলুদ ফুলকপি’, দাম ও চাহিদায় খুশি কৃষকরা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

শীতকালীন সবজির বাজারে সাধারণত সাদা রঙের ফুলকপির আধিপত্য থাকলেও এবার দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। সাদা কপির ভিড়ে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ব্যতিক্রমী ‘রঙিলা’ জাতের হলুদ ফুলকপি। দেখতে সুন্দর এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বীরগঞ্জ পৌরশহরের দৈনিক কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দোকানগুলোতে সাজানো হলুদ রঙের ফুলকপি দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন ক্রেতারা। সাধারণ সাদা কপির চেয়ে দাম একটু বেশি হলেও শৌখিন ক্রেতারা এটি কিনছেন আগ্রহ নিয়ে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতোর, ভোগনগর, মোহনপুর, পাল্টাপুর ও নিজপাড়া ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে কয়েকজন উদ্যোগী কৃষক প্রথমবারের মতো এই রঙিন ফুলকপির চাষ শুরু করেছেন।

পাল্টাপুর ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা আনিসুর রহমান বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে এবার ২০ শতক জমিতে প্রথমবারের মতো হলুদ রঙের ‘রঙিলা’ জাতের ফুলকপি চাষ করেছি। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা দেখে আমি খুবই খুশি। সাদা কপির চেয়ে এটি বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি।” তিনি জানান, ভালো লাভের সম্ভাবনা থাকায় আগামীতে আরও বড় পরিসরে (৮-১০ বিঘা জমিতে) এই কপি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।বাজারদর যাচাই করে দেখা গেছে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ হলুদ ফুলকপি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে যেখানে একটি সাদা ফুলকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে হলুদ ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

সাতোর ইউনিয়নের আরেক কৃষক ইব্রাহিম জানান, নতুন জাতের এই সবজি বাজারে আনার পর ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই ভালো দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “চলতি বছর উপজেলায় ৫ জন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে হলুদ ফুলকপি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। পুষ্টিগুণ ও স্বাদের কারণে বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে আমরা সব ধরনের প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছি।”