রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে জামায়াত প্রার্থী মতিউরের নির্বাচনী উঠান বৈঠক

শাহিন ইসলাম

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

বীরগঞ্জে জামায়াত প্রার্থী মতিউরের নির্বাচনী উঠান বৈঠক

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা এবং গণসংযোগ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে উপজেলার ১১নং মরিচা ইউনিয়নের কাটগড় গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক অনিল রায়ের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ অর্থাৎ বীরগঞ্জ-কাহারোল আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মতিউর রহমান। 

সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন যা গ্রামীণ জনপদে নির্বাচনের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রধান অতিথি মো. মতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন যে সমাজের সকল স্তরের মানুষের ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিত করাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের এই কৃষিপ্রধান জনপদের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন।

ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং যুব সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণে তিনি নির্বাচিত হলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন যে জনগণ যদি যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করতে ভুল না করে তবেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো. সামাউন কবীর এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হামিদুর রহমান। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও নিষ্ঠার কথা তুলে ধরে সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং ১১নং মরিচা ইউনিয়নের আমীর মাওলানা জয়নাল আবেদীন। বক্তারা বলেন যে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে যোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। কাটগড় গ্রামের এই উঠান বৈঠকটি একপর্যায়ে জনসমাবেশে রূপ নেয়। সকাল থেকেই গ্রামের সাধারণ মানুষ দলে দলে নির্দিষ্ট স্থানে সমবেত হতে থাকেন। সভাপতিত্বের দায়িত্বে থাকা অনিল রায় তাঁর বক্তব্যে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 উপস্থিত জনতার মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় মুরুব্বিদের পাশাপাশি যুব সমাজের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রার্থীর আগমনে গ্রামবাসী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনেই এই ঘরোয়া বৈঠকটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। বীরগঞ্জ ও কাহারোল নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং জামায়াত প্রার্থীর এই তৃণমূল গণসংযোগ দলের অবস্থানকে সুসংহত করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।