বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অটিস্টিকদের মূলস্রোতে আনার আহ্বান

মো: মামুনুর রশিদ

মে ১৩, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অটিস্টিকদের মূলস্রোতে আনার আহ্বান

ছবি-দিনাজপুর টিভি

“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়—প্রতিটি জীবন মূল্যবান”—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দিনাজপুরে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।

সকাল ১০টায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের করা হয়। র‍্যালী শেষে সমাজসেবার হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রোকনুজ্জামান মণ্ডল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মোঃ মুনির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহর সমাজসেবা অফিসার মোঃ মাইনুল ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার (মেডিকেল অফিসার) রওশন আরা এবং রাজবাড়ি শিশু পরিবার দিনাজপুরের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মাহমুদা নুসরাত জাহান।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস আরা ফয়েজ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল শাহনেওয়াজ, সিডিএ-এর রিসোর্স পারসন অনামিকা পাণ্ডে এবং প্রতিবন্ধী সামিনা বেগম। অনুষ্ঠানটি সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অফিস সহকারী মোঃ গোলাম রব্বানী।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অটিজম শনাক্ত করার জন্য সরাসরি কোনো মেডিকেল টেস্ট নেই; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মূলত শিশুর আচরণ মূল্যায়নের মাধ্যমেই এটি নির্ণয় করে থাকেন। 

বক্তারা আরও বলেন, “কোনো অটিস্টিক শিশুকে যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা ও সঠিক পরিবেশ প্রদান করা যায়, তবে সে-ও হতে পারে একজন বিশ্ববিখ্যাত মহাবিজ্ঞানী। তার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হলেন স্টিফেন হকিং। তাই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এবং মানবিক আচরণের মাধ্যমে অটিস্টিক ব্যক্তিদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হবে।”বক্তারা আহ্বান জানিয়ে বলেন, অটিস্টিক শিশুদের ভিন্নতাকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং সৌন্দর্য হিসেবে দেখা শিখতে হবে। আমাদের সামান্য সংবেদনশীলতা তাদের জীবন বদলে দিতে পারে। সভার শেষ পর্যায়ে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও প্রতিবন্ধী শিশুরা অংশগ্রহণ করেন।