জুন ২৭, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
দিনাজপুরের গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালে ৯টি উপজেলা থেকে আসা ৫০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা বিষয়ক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্ধেরী হেলফি বন জার্মানির সহযোগিতায় এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে শনিবার সকালে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের সভাপতি ও দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম।শিক্ষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি দিনাজপুরের সহ-সভাপতি মো. আতাউর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ বক্তা হিসেবে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল হক ছুঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক চিকিৎসক মো. জনাব আলী, কোষাধ্যক্ষ সুজাউর রব চৌধুরী এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আব্দুস সবুর চৌধুরী। কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে মো. আফতাব উদ্দিন মন্ডল, আবুল কালাম এবং মো. জিয়াউল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন কার্যনির্বাহী সদস্য আইনজীবী মেহেরুন ইসলাম।
উদ্বোধনী পর্বের পর দ্বিতীয় সেশনে শিক্ষকদের জন্য একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ ক্লাসের আয়োজন করা হয়। এই সেশনে শিশুদের চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, বিভিন্ন জটিল শিশু চক্ষু রোগের আধুনিক চিকিৎসা এবং প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করেন গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক রিয়াদ ইবনে মাহামুদ। দিনব্যাপী এই আয়োজনে দিনাজপুর জেলার কাহারোল, পার্বতীপুর, বিরামপুর, হাকিমপুর, ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও বীরগঞ্জ উপজেলার ৫০ জন প্রাথমিক শিক্ষক অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষিত এই শিক্ষকেরা পরবর্তীতে নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চোখের সুরক্ষায় কাজ করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চোখ মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অমূল্য সম্পদ। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন চরম হতাশা ও বিড়ম্বনায় ভরা থাকে এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকেরা হলেন সমাজ ও দেশ গড়ার প্রকৃত কারিগর, তাই পড়াশোনার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখের পরিচর্যা ও সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন করা তাদের একটি অত্যন্ত পবিত্র নৈতিক দায়িত্ব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন