রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দিনাজপুরে জামায়াতের বৈঠক, নতুন বাংলাদেশ গঠনে সংস্কারের দাবি

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

জুন ২৮, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম

দিনাজপুরে জামায়াতের বৈঠক, নতুন বাংলাদেশ গঠনে সংস্কারের দাবি

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশেষ দায়িত্বশীল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে শহরের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভাটি সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আংশিক এবং পরবর্তী সময়ের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করার অঙ্গীকার নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। 

বিগত আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও যুবসমাজের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি শেরপুর ও সুন্দরগঞ্জে বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুগান্তকারী নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ নতুন বাংলাদেশ গঠনে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নিজেদের সুনির্দিষ্ট রায় দিয়েছেন।

জনগণের এই বিপুল রায়কে উপেক্ষা করে তা ভিন্নখাতে নেওয়ার যেকোনো চক্রান্তকে সাধারণ মানুষের সাথে স্পষ্ট প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন জামায়াত নেতা। তিনি দেশের সুশাসন ও জুলাই সনদের চুক্তিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত কার্যকর সংস্কার কমিশন গঠনের ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে, সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের যে অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করেছিল, তা কার্যকর হওয়ার পরেও বর্তমান সরকার তা বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুক্ত করায় তিনি তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেন। 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপকে এক ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈঠকে বলা হয়, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের এক সপ্তাহের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। এবারও জনগণের প্রত্যাশা ছিল জাতীয় নির্বাচনের আগেই যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করা হয়, কিন্তু সরকার তা না করে ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। 

দেশের অনেক জেলায় বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিপুল ভোটের ব্যবধান পরাজিত হয়েছেন, সরকার দলীয় স্বার্থ রক্ষার্থে তাঁদেরকেই বেআইনিভাবে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলে বৈঠকে অভিযোগ করা হয়। সভায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি মোঃ রাজিবুর রহমান পলাশ, সাইদুল ইসলাম সৈকত, জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক অধ্যাপক আ স ম ইব্রাহিম এবং শহর আমীর মাওলানা সিরাজুস সালেহীন।