মাহবুবুর রহমান
জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কাদাভরা সড়কে ধান রোপণ করে অভিনব কায়দায় নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে দুই শিশু শিক্ষার্থী।সম্প্রতি ইউনিয়নের ঘোরাবন্দা এলাকায় কাদাযুক্ত একটি সড়কে ধান রোপণ করে প্রতিবাদ জানায় রাকিব ও ফয়সাল নামে দুই শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের মতে, এটি তাদের দীর্ঘদিনের সড়ক যন্ত্রণার একটি প্রতীকী প্রকাশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাল্টাপুর ইউনিয়নের স্লুইসগেট হয়ে ঘোরাবন্দা-কাজলগ্রাম সড়ক, ঘোরাবন্দা থেকে সনকাগামী সড়ক এবং ঘোরাবন্দা থেকে কালিহাঁটুগামী সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক কাদাযুক্ত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও এত কাদা জমে যে পথচারীদের হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচলে তৈরি হয় নানা প্রতিবন্ধকতা।

শিক্ষার্থী রাকিব ও ফয়সাল জানায়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বর্ষাকালে রাস্তার কাদার কারণে প্রায়ই তারা পিছলে পড়ে যায়। অনেক সময় তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। সড়কের এমন অবস্থার প্রতি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তারা ধান রোপণের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মক্লেছুর রহমান জানান, পাল্টাপুর ইউনিয়নের বহু মানুষ প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করেন। বর্ষা এলেই চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং সাধারণ যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিনের দাবির পরেও কার্যকর সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য তাকেও এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হন। অনেকে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। শিক্ষাকার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।